স্কুল থেকে ফেরার পর মেয়ের ড্রেস খু”লতে যাচ্ছিল, হঠাৎ শার্টের পকেটে হাত দিতে
Dhaka , Monday, 15 June 2026
News Title :
সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের জন্য সুসংবাদ পুনরায় আবার… বরিশালে ডা’কা’তি করতে গিয়ে জিনিসপত্র নেওয়ার পর ঘরে থাকা প্রবাসীর বউ কে… অবশেষে সংসদে ২৬৫ সদস্যের ভোট পেয়ে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন জ… অবশেষে বিয়ে করতে যাচ্ছে জাইমা রহমান।পাত্র হলেন সাবেক মন্ত্রীর একমাত্র… বাচ্চারা ঘুমিয়ে পড়েছে তাই মশারি টানাতে যাচ্ছিলাম হঠাৎ মশারির উপরে তাকিয়ে দেখি… হিজড়া সুন্দরী হলেও তাদের ৩টি জিনিসে ভুলেও হাত দেবেন না…..see more ঢাকা মিরপুরে ঘ’টে গেল এমন একটি ঘ’টনা সন্ধ্যা ৭ টার সময় পুলিশের একটি….. See more মাওলানা মিজানুর রহমান মা’রা গেছেন বাবা হলেন হাসনাত, মেয়ের নাম হাসিনা। এ ঘটনায় নাহিদ মজা করে বলে… see more সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের জন্য সুসংবাদ পুনরায় আবার…
News Title :
সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের জন্য সুসংবাদ পুনরায় আবার… বরিশালে ডা’কা’তি করতে গিয়ে জিনিসপত্র নেওয়ার পর ঘরে থাকা প্রবাসীর বউ কে… অবশেষে সংসদে ২৬৫ সদস্যের ভোট পেয়ে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন জ… অবশেষে বিয়ে করতে যাচ্ছে জাইমা রহমান।পাত্র হলেন সাবেক মন্ত্রীর একমাত্র… বাচ্চারা ঘুমিয়ে পড়েছে তাই মশারি টানাতে যাচ্ছিলাম হঠাৎ মশারির উপরে তাকিয়ে দেখি… হিজড়া সুন্দরী হলেও তাদের ৩টি জিনিসে ভুলেও হাত দেবেন না…..see more ঢাকা মিরপুরে ঘ’টে গেল এমন একটি ঘ’টনা সন্ধ্যা ৭ টার সময় পুলিশের একটি….. See more মাওলানা মিজানুর রহমান মা’রা গেছেন বাবা হলেন হাসনাত, মেয়ের নাম হাসিনা। এ ঘটনায় নাহিদ মজা করে বলে… see more সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের জন্য সুসংবাদ পুনরায় আবার…

স্কুল থেকে ফেরার পর মেয়ের ড্রেস খু”লতে যাচ্ছিল, হঠাৎ শার্টের পকেটে হাত দিতে

  • Reporter Name
  • Update Time : 02:19 pm, Tuesday, 26 May 2026
  • 2129 Time View

‘স্কুলড্রেস পরা মেয়েদের দেখলেই বুক ফেটে যায়! যদি গাড়িতে দেখি চোখ বন্ধ করে রাখি, সামনে পড়লে চোখ ফিরিয়ে নিই। মনে হয় আমার মিনুর মতো কেউ সামনে চলে এসেছে। নিজেকে আর ধরে রাখতে পারি না। চোখে ভিজে যায়, দম বন্ধ হয়ে আসে।

‘গত ৭ বছর আমি বাড়ি থেকে বের হতে পারি না’- বলতেই চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছিল শাহিদা বেগমের। ২০১৫ সালের ২০ আগস্ট মেয়ে মিনুকে হারিয়েছেন তিনি।

চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার আয়নাতলী ফরিদ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী শারমিন আক্তার মিনু স্কুলে সহপাঠীর দ্বারা উত্ত্যক্তের শিকার হয়ে এবং উত্ত্যক্তকারীর পরিবারের দ্বারা নাজেহাল হওয়ার ক্ষোভে আত্মহত্যা করেছিলেন।

মেয়েকে নিয়েই স্মৃতিচারণ করছিলেন শাহিদা বেগম। ৭ বছর ধরে একমাত্র মেয়ের স্মৃতি আঁকড়ে আছেন তিনি। প্রতিদিনই ছুঁয়ে দেখেন মেয়ের বই-খাতা, জামা-কাপড়, ছাতা আর কসমেটিক্স।

মিনুর কক্ষটিতে কাউকে ঢুকতে দেন না শাহিদা। অনেকদিন আগে রাখা মেয়ের বইগুলোর রঙ মলিন হলেও তার হৃদয়ের দগদগে ঘা একটুও শুকায়নি। ৫২ বছরের শরীরে তাই জেঁকে বসেছে বিভিন্ন ব্যাধি।

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, আত্মহত্যার ৭ বছর পরও মামলা তুলে নিতে আসামিদের একের পর এক হুমকি পাচ্ছেন তারা।

মিনুর আত্মহত্যার পর তার ঘর থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছিল পুলিশ। এতে লেখা ছিল- ‘মা, ভাইয়া, আমাকে ক্ষমা করে দিও। আমি বাঁচতে চেয়েছিলাম। কিন্তু নিষ্ঠুর পৃথিবীর মানুষেরা আমাকে বাঁচতে দিল না। আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী তারেক, তারেকের মা ও তার বোন কণিকা। আমার মৃত্যুর প্রতিশোধ তোমরা নিও।’

ঘটনার পর মিনুর ভাই শাহাবুদ্দিন নয়ন ৫ জনের নাম উল্লেখ করে শাহরাস্তি থানায় একটি মামলা করেন। এ সময় শুধু প্রধান অভিযুক্ত তারেককে গ্রেপ্তার করা হয়।

২০১৫ সালের ২২ ডিসেম্বর শাহরাস্তি থানার তখনকার এসআই নিজাম উদ্দিন আদালতে অভিযোগপত্র দিলে পক্ষপাতদুষ্ট তদন্ত হয়েছে দাবি করে এর ওপর নারাজি আবেদন করে মিনুর পরিবার। পরে নারাজি আবেদনটি মঞ্জুর হলে মামলাটি সিআইডিতে পাঠায় আদালত।

সিআইডি তদন্ত শেষে ২০১৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিলে আদালত মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) আবারও তদন্তের নির্দেশ দেয়। ২০১৭ সালে তারেক, তার মা রুপবান বেগম ও বোন কনিকাকে দায়ী করে অভিযোগপত্র দেয় পিবিআই।

মিনুর ভাই শাহাবুদ্দিন নয়ন বলেন, ‘তারেকের বয়স কমিয়ে ভুয়া জন্মসনদ তৈরি করেছিল তার পরিবার। সেখানে ঘটনার সময় তারেকের বয়স দেখানো হয় ১৭ বছর ৫ মাস ১২ দিন। অথচ পরে মেডিক্যাল রিপোর্টে প্রমাণিত হয় তারেকের বয়স ছিল ২০ বছর। ভুয়া জন্মসনদে অপ্রাপ্তবয়স্ক দেখিয়ে তার জামিন নেয়া হয়। আর মিনুর আত্মহত্যায় প্রধান প্ররোচনাকারী তারেকের মা রূপবান বেগম ও বোন কনিকা আজও ধরা ছোঁয়ার বাইরে।’

নয়ন আরও বলেন, ‘তারেক ও তার মা আমাকে প্রতিনিয়ত মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছেন। বোন হারানোর বিচার চেয়ে এখন নিজেই প্রাণ শঙ্কায় আছি।’

মামলার আইনজীবী শাহেদুল হক মজুমদার সোহেল জানান, বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন। আসামিদের হুমকি-ধমকির প্রেক্ষিতে মিনুর পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হবে।

জানা যায়, উপজেলার চিতোষী পশ্চিম ইউনিয়নের হাড়িয়া গ্রামের প্রবাসী মোহাম্মদ আলীর মেয়ে শারমিন আক্তার মিনুকে প্রায়ই উত্ত্যক্ত করতো সহপাঠী ও পার্শ্ববর্তী সংহাই গ্রামের প্রবাসী আবু তাহেরের ছেলে মমিন হোসেন তারেক। ঘটনার দিন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের উপস্থিতিতে ইংরেজি ক্লাস চলার সময় তারেকের মা রূপবান বেগম ক্লাসের ভেতর ঢুকে মিনুকে দাঁড়াতে বলেন এবং তার ছেলের সঙ্গে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করার পরামর্শ দেন।

এমন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে বিরতির সময় রুপবান বেগম ও তার মেয়ে কনিকা মিনুকে গালাগাল করেন। ওই সময় তারেক মিনুকে চড় মারেন এবং মুখে থুতু দেন।

সহপাঠীদের সামনে অপমানিত হয়ে রাগে ক্ষোভে ছুটি নিয়ে বাড়ির দ্বিতীয় তলায় গিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের জন্য সুসংবাদ পুনরায় আবার…

স্কুল থেকে ফেরার পর মেয়ের ড্রেস খু”লতে যাচ্ছিল, হঠাৎ শার্টের পকেটে হাত দিতে

Update Time : 02:19 pm, Tuesday, 26 May 2026

‘স্কুলড্রেস পরা মেয়েদের দেখলেই বুক ফেটে যায়! যদি গাড়িতে দেখি চোখ বন্ধ করে রাখি, সামনে পড়লে চোখ ফিরিয়ে নিই। মনে হয় আমার মিনুর মতো কেউ সামনে চলে এসেছে। নিজেকে আর ধরে রাখতে পারি না। চোখে ভিজে যায়, দম বন্ধ হয়ে আসে।

‘গত ৭ বছর আমি বাড়ি থেকে বের হতে পারি না’- বলতেই চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছিল শাহিদা বেগমের। ২০১৫ সালের ২০ আগস্ট মেয়ে মিনুকে হারিয়েছেন তিনি।

চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার আয়নাতলী ফরিদ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী শারমিন আক্তার মিনু স্কুলে সহপাঠীর দ্বারা উত্ত্যক্তের শিকার হয়ে এবং উত্ত্যক্তকারীর পরিবারের দ্বারা নাজেহাল হওয়ার ক্ষোভে আত্মহত্যা করেছিলেন।

মেয়েকে নিয়েই স্মৃতিচারণ করছিলেন শাহিদা বেগম। ৭ বছর ধরে একমাত্র মেয়ের স্মৃতি আঁকড়ে আছেন তিনি। প্রতিদিনই ছুঁয়ে দেখেন মেয়ের বই-খাতা, জামা-কাপড়, ছাতা আর কসমেটিক্স।

মিনুর কক্ষটিতে কাউকে ঢুকতে দেন না শাহিদা। অনেকদিন আগে রাখা মেয়ের বইগুলোর রঙ মলিন হলেও তার হৃদয়ের দগদগে ঘা একটুও শুকায়নি। ৫২ বছরের শরীরে তাই জেঁকে বসেছে বিভিন্ন ব্যাধি।

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, আত্মহত্যার ৭ বছর পরও মামলা তুলে নিতে আসামিদের একের পর এক হুমকি পাচ্ছেন তারা।

মিনুর আত্মহত্যার পর তার ঘর থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছিল পুলিশ। এতে লেখা ছিল- ‘মা, ভাইয়া, আমাকে ক্ষমা করে দিও। আমি বাঁচতে চেয়েছিলাম। কিন্তু নিষ্ঠুর পৃথিবীর মানুষেরা আমাকে বাঁচতে দিল না। আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী তারেক, তারেকের মা ও তার বোন কণিকা। আমার মৃত্যুর প্রতিশোধ তোমরা নিও।’

ঘটনার পর মিনুর ভাই শাহাবুদ্দিন নয়ন ৫ জনের নাম উল্লেখ করে শাহরাস্তি থানায় একটি মামলা করেন। এ সময় শুধু প্রধান অভিযুক্ত তারেককে গ্রেপ্তার করা হয়।

২০১৫ সালের ২২ ডিসেম্বর শাহরাস্তি থানার তখনকার এসআই নিজাম উদ্দিন আদালতে অভিযোগপত্র দিলে পক্ষপাতদুষ্ট তদন্ত হয়েছে দাবি করে এর ওপর নারাজি আবেদন করে মিনুর পরিবার। পরে নারাজি আবেদনটি মঞ্জুর হলে মামলাটি সিআইডিতে পাঠায় আদালত।

সিআইডি তদন্ত শেষে ২০১৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিলে আদালত মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) আবারও তদন্তের নির্দেশ দেয়। ২০১৭ সালে তারেক, তার মা রুপবান বেগম ও বোন কনিকাকে দায়ী করে অভিযোগপত্র দেয় পিবিআই।

মিনুর ভাই শাহাবুদ্দিন নয়ন বলেন, ‘তারেকের বয়স কমিয়ে ভুয়া জন্মসনদ তৈরি করেছিল তার পরিবার। সেখানে ঘটনার সময় তারেকের বয়স দেখানো হয় ১৭ বছর ৫ মাস ১২ দিন। অথচ পরে মেডিক্যাল রিপোর্টে প্রমাণিত হয় তারেকের বয়স ছিল ২০ বছর। ভুয়া জন্মসনদে অপ্রাপ্তবয়স্ক দেখিয়ে তার জামিন নেয়া হয়। আর মিনুর আত্মহত্যায় প্রধান প্ররোচনাকারী তারেকের মা রূপবান বেগম ও বোন কনিকা আজও ধরা ছোঁয়ার বাইরে।’

নয়ন আরও বলেন, ‘তারেক ও তার মা আমাকে প্রতিনিয়ত মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছেন। বোন হারানোর বিচার চেয়ে এখন নিজেই প্রাণ শঙ্কায় আছি।’

মামলার আইনজীবী শাহেদুল হক মজুমদার সোহেল জানান, বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন। আসামিদের হুমকি-ধমকির প্রেক্ষিতে মিনুর পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হবে।

জানা যায়, উপজেলার চিতোষী পশ্চিম ইউনিয়নের হাড়িয়া গ্রামের প্রবাসী মোহাম্মদ আলীর মেয়ে শারমিন আক্তার মিনুকে প্রায়ই উত্ত্যক্ত করতো সহপাঠী ও পার্শ্ববর্তী সংহাই গ্রামের প্রবাসী আবু তাহেরের ছেলে মমিন হোসেন তারেক। ঘটনার দিন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের উপস্থিতিতে ইংরেজি ক্লাস চলার সময় তারেকের মা রূপবান বেগম ক্লাসের ভেতর ঢুকে মিনুকে দাঁড়াতে বলেন এবং তার ছেলের সঙ্গে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করার পরামর্শ দেন।

এমন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে বিরতির সময় রুপবান বেগম ও তার মেয়ে কনিকা মিনুকে গালাগাল করেন। ওই সময় তারেক মিনুকে চড় মারেন এবং মুখে থুতু দেন।

সহপাঠীদের সামনে অপমানিত হয়ে রাগে ক্ষোভে ছুটি নিয়ে বাড়ির দ্বিতীয় তলায় গিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।