Dhaka , Thursday, 30 July 2026

নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: আলোচনায় ড. মুহাম্মদ ইউনূস!…see more

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর শূন্য হওয়া বঙ্গভবনের পরবর্তী অভিভাবক কে হচ্ছেন—তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। সংবিধানের বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী, আগামী ২৪ অক্টোবরের মধ্যে (৯০ দিনের মধ্যে) নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। ক্ষমতাসীন দল বিএনপির অভ্যন্তরীণ সমীকরণ ছাপিয়ে এই পদে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ও সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নাম আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসায় রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে বাড়তি কৌতূহল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রপতির মতো অলংকারিক পদে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নাম আসার পেছনে রয়েছে তার আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ও রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা। ২০২৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালনের পর, বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে এবং কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে তার মতো ব্যক্তিত্ব বড় ভূমিকা রাখতে পারেন বলে মনে করছেন অনেকে। তবে দলীয় আনুগত্য নাকি বৈশ্বিক ভাবমূর্তি—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে গিয়ে কিছুটা কৌশলগত সমীকরণের মুখোমুখি হয়েছে বিএনপি।

ড. ইউনূসের পাশাপাশি বিএনপির নিজস্ব নীতিনির্ধারণী পর্যায় এবং দলের ভেতরে অভিজ্ঞ একঝাঁক নেতার নামও জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে। সম্ভাব্য এই তালিকার শীর্ষে রয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (মহাসচিব ও মন্ত্রী), ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন (প্রবীণ নেতা), গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও ড. আবদুল মঈন খান, অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী (প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব)। এছাড়া বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমেদকে স্থায়ীভাবে এই পদে রাখার গুঞ্জনও রয়েছে।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। দলটির একটি অংশের মতে, দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রাম ও রাজপথের সংকটে পরীক্ষিত কাউকেই সর্বোচ্চ এই পদে বসানো উচিত। অন্যদিকে সংবিধান ও গঠনতন্ত্র মেনেই সঠিক সময়ে প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে বলে স্পষ্ট করেছেন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত দলীয় পরিচয়ের ওপর নির্ভর করে কাউকে এই পদে বেছে নেওয়া হয়, নাকি বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতাকে প্রাধান্য দিয়ে ড. ইউনূসের মতো কোনো নিরপেক্ষ ব্যক্তিত্বের হাতে বঙ্গভবনের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: আলোচনায় ড. মুহাম্মদ ইউনূস!…see more

Update Time : 46 Minutes Ago

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর শূন্য হওয়া বঙ্গভবনের পরবর্তী অভিভাবক কে হচ্ছেন—তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। সংবিধানের বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী, আগামী ২৪ অক্টোবরের মধ্যে (৯০ দিনের মধ্যে) নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। ক্ষমতাসীন দল বিএনপির অভ্যন্তরীণ সমীকরণ ছাপিয়ে এই পদে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ও সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নাম আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসায় রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে বাড়তি কৌতূহল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রপতির মতো অলংকারিক পদে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নাম আসার পেছনে রয়েছে তার আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ও রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা। ২০২৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালনের পর, বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে এবং কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে তার মতো ব্যক্তিত্ব বড় ভূমিকা রাখতে পারেন বলে মনে করছেন অনেকে। তবে দলীয় আনুগত্য নাকি বৈশ্বিক ভাবমূর্তি—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে গিয়ে কিছুটা কৌশলগত সমীকরণের মুখোমুখি হয়েছে বিএনপি।

ড. ইউনূসের পাশাপাশি বিএনপির নিজস্ব নীতিনির্ধারণী পর্যায় এবং দলের ভেতরে অভিজ্ঞ একঝাঁক নেতার নামও জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে। সম্ভাব্য এই তালিকার শীর্ষে রয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (মহাসচিব ও মন্ত্রী), ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন (প্রবীণ নেতা), গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও ড. আবদুল মঈন খান, অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী (প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব)। এছাড়া বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমেদকে স্থায়ীভাবে এই পদে রাখার গুঞ্জনও রয়েছে।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। দলটির একটি অংশের মতে, দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রাম ও রাজপথের সংকটে পরীক্ষিত কাউকেই সর্বোচ্চ এই পদে বসানো উচিত। অন্যদিকে সংবিধান ও গঠনতন্ত্র মেনেই সঠিক সময়ে প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে বলে স্পষ্ট করেছেন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত দলীয় পরিচয়ের ওপর নির্ভর করে কাউকে এই পদে বেছে নেওয়া হয়, নাকি বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতাকে প্রাধান্য দিয়ে ড. ইউনূসের মতো কোনো নিরপেক্ষ ব্যক্তিত্বের হাতে বঙ্গভবনের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়।